Views Bangladesh Logo

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৩৪ বাংলাদেশি নিহত

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

চাকরি ও স্থায়ী উন্নত জীবনের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া শতাধিক বাংলাদেশি তরুণের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে শতাধিক বাংলাদেশি।

ব্যাংককভিত্তিক ফোর্টিফাই রাইটস এবং ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি বাংলাদেশি তরুণদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গবেষণা রিপোর্টটি বাংলাদেশ এবং ইউক্রেনের ২৪ জনের সাক্ষাত্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের পরিবার এবং শ্রীলঙ্কা ও নেপালের যুদ্ধবন্দির সাক্ষাত্কার রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউক্রেনীয় তথ্যের ভিত্তিতে কমপক্ষে ১০৪ জন বাংলাদেশিকে এই যুদ্ধে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং অনেক সাক্ষাত্কারে ‘ডজন ডজন’ বাংলাদেশি নিহতের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেছেন, প্রতিবেদনে দেওয়া সংখ্যা ন্যূনতম অনুমান এবং বাস্তব সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।

ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি জানিয়েছেন, 'সাক্ষাত্কারে অনেক আত্মীয় জানিয়েছেন, তারা মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এখনও কেউ তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ পায়নি। তারা চাইছেন, লাশ দেশে আনা হয়ে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হোক।'

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে নিয়োগের প্রক্রিয়া ভ্রান্ত তথ্য ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। অনেকেই ১,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে বিদেশে চাকরি পাওয়ার আশায় অংশ নিয়েছেন। কেউ কেউ ভেবেছিলেন তারা ইউরোপের কারখানায় কাজ করবেন বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নয় এমন সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদেরকে সম্মুখ সারিতে মোতায়েন করা হয়।

এক বাংলাদেশি যোদ্ধা ফোর্টিফাই রাইটসকে জানিয়েছেন, তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য অর্থ পাঠানোর আশায় ‘সাইন আপ’ করেছিলেন, কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে তাকে সম্মুখ সারিতে পাঠানো হয়। বাড়ি ফেরার জন্য আবেদন করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং তার অভিজ্ঞতা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের সহ-নির্বাহী পরিচালক ওকসানা পোকালচুক জানিয়েছেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকেও অনুরূপভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানো সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পুলিশ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে পাচারবিরোধী সমন্বয় জোরদার এবং দেশে ফিরে আসা বেঁচে যাওয়াদের জন্য আরও ভালো সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ