Views Bangladesh Logo

রামেকে আইসিইউর অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) আইসিইউ সংকটের কারণে একের পর এক শিশুমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর গত আড়াই মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩-তে।

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো আইসিইউ সুবিধা না পাওয়াই এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

পবা উপজেলার মুরারিপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নূহ আলম দুই সপ্তাহ ধরে তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে রামেকের শিশু ওয়ার্ডে আছেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির শ্বাসকষ্ট বাড়লেও আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি না থাকায় তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার সিরিয়াল নম্বর ২৭—কখন বেড খালি হবে, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের জন্য নির্ধারিত ১২ শয্যার আইসিইউতে সাধারণত দীর্ঘ সময় রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে সহজে বেড খালি হয় না। কোনো রোগী মারা গেলে তবেই নতুন রোগী নেওয়া সম্ভব হয়।

রামেকের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, অপেক্ষমাণ তালিকায় থেকে আইসিইউ না পেয়ে আড়াই মাসে ৫৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু ১১ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যেই ২৮ শিশু মারা গেছে। আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পরও মারা গেছে আরও ৯ শিশু।

চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও হামের প্রকোপ বেড়েছে। টিকাদানে ঘাটতির কারণে হাম বেশি ছড়াচ্ছে, যা শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিগগিরই টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে তীব্র ভিড়—একটি বেডে একাধিক রোগী, অনেক ক্ষেত্রে মেঝেতেও চিকিৎসা চলছে। অক্সিজেনের জন্য অপেক্ষা, স্বজনদের উৎকণ্ঠা—সব মিলিয়ে এক চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেকে ৬০ শয্যার একটি বড় আইসিইউ কমপ্লেক্স নির্মিত হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

রামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে আইসিইউ চালু আছে, সেটিও সরকার অনুমোদিত নয় এবং হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ সুবিধা থাকলেও সেটি এখনো চালু হয়নি।

চিকিৎসকদের মতে, অবকাঠামো থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনা, জনবল ও দ্রুত সিদ্ধান্তের অভাবেই এ সংকট প্রকট হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই শিশু ওয়ার্ডে বাড়ছে মৃত্যু আর স্বজনদের আহাজারি—যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটেরই প্রতিফলন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ