Views Bangladesh Logo

রাজশাহীতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু: বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবি ইয়্যাসের

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে গত ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুকে ‘নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক অবহেলা ও কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)। শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মো. শামীউল আলীম শাওন এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে আইসিইউ বেডের অভাবে ৩৩টি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা স্বাস্থ্যখাতের সাধারণ সংকটের বাইরে গিয়ে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। আড়াই বছরের শিশু নুসায়বার মৃত্যুর চার দিন পর আইসিইউ বেড খালি হওয়ার ফোন পাওয়ার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অকার্যকারিতার একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইয়্যাস জানায়, একদিকে যখন হাসপাতালে শিশুরা পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আইসিইউ সুবিধার অভাবে মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে শহরের বহরমপুর এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার আধুনিক রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। সেখানে ৫৬টি আইসিইউ শয্যা ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবল কাঠামো অনুমোদনের অজুহাতে হাসপাতালটি চালু করা হয়নি। বিষয়টি সংবিধানের ১৫(ক) ও ১৮(১) অনুচ্ছেদ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইয়্যাস তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো—অবিলম্বে হাসপাতাল ভবন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে চালু করা, স্থায়ী নিয়োগের অপেক্ষা না করে প্রেষণে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইসিইউ ও জরুরি বিভাগ চালু করা, এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শিশুদের জীবনের বিনিময়ে প্রশাসনিক অজুহাত আর মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত হাসপাতাল চালু না হলে সাধারণ মানুষ ও সচেতন যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও বলা হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ