গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলে ৩১ বিশিষ্ট নাগরিকের ক্ষোভ
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
রোববার (১২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তারা বলেন, মৌলিক সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব অধ্যাদেশ রহিত করা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি সিদ্ধান্ত।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি পাসের সুপারিশ থাকলেও মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো রহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এসব অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাসকে তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে, এসব অধ্যাদেশ কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং সরকারের জবাবদিহি বৃদ্ধি পেত। কিন্তু তা না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া তথ্য অধিকার (সংশোধন) ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বিলম্বিত করাকেও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করা হয়। নাগরিকরা দ্রুত এসব অধ্যাদেশ আইন আকারে পাসের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় জনগণ পুনরায় প্রতিবাদে সোচ্চার হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব অধ্যাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কাঠামো ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যা এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরও সুসংহত হতে পারত। কিন্তু এগুলো বাতিল বা পাস না হওয়ায় নীতিগত সংস্কারের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
নাগরিকরা এসব অধ্যাদেশ দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন হিসেবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে নাগরিক সমাজ আরও সংগঠিত আন্দোলনে যেতে পারে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিচারিক স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে