Views Bangladesh Logo

ডিজিটাল ঋণগ্রহীতাদের ৩০-৪০ শতাংশই গ্রামের মানুষ: বিআইবিএম গবেষণা

দেশে ডিজিটাল ঋণসেবার বিস্তারের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বাড়ছে। বর্তমানে ডিজিটাল ঋণগ্রহীতাদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার মানুষ। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং, ই-কেওয়াইসি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের ফলে ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও গ্রামের মানুষ আনুষ্ঠানিক ঋণসেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ডিজিটাল লোনস ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ঋণ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা গ্রামীণ মানুষ, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের ঋণ কার্যকর অর্থায়নের পথ তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল ব্যাংকের শাখায় যাতায়াত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জামানত এবং আগের ঋণের তথ্য না থাকা। ডিজিটাল ঋণব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রচলিত ব্যাংকিং কাঠামোর বাইরে থাকা অনেক গ্রাহকের জন্যও আনুষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল ঋণের অন্যতম সুবিধা হলো তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত গ্রাহকের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ঋণের পরিচালন ব্যয় প্রচলিত ঋণের তুলনায় ১ থেকে ২ শতাংশেরও কম হতে পারে। ফলে অল্প পরিমাণের ঋণ বিতরণও আর্থিকভাবে কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ডিজিটাল ঋণের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক কিংবা স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনের সময়ে স্বল্পমেয়াদি মূলধন পেলে ব্যবসার চলতি খরচ মেটানো, কাঁচামাল বা পণ্য কেনা এবং উৎপাদন বাড়ানোর কাজে তা ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষের কাছে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা এবং ব্যাংকঋণ পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়া মানুষের জন্য এটি ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে।

তবে ডিজিটাল ঋণের দ্রুত বিস্তারের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ, তথ্যের অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণায় ডিজিটাল ঋণে খেলাপির হার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনরায় ঋণ নেওয়া গ্রাহকের হার প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানভেদে নারী ঋণগ্রহীতাদের অংশ ৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল ঋণ পৌঁছানোই যথেষ্ট নয়; সেবাটিকে একই সঙ্গে সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করতে হবে। শক্তিশালী ডেটা অবকাঠামো, রিয়েল-টাইম ক্রেডিট তথ্য, সাইবার নিরাপত্তা, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং কার্যকর গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ডিজিটাল ঋণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ