Views Bangladesh Logo

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সাত দফা কৌশলগত সুপারিশও করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্তে খুলশী থানার তিন সদস্যের বিরুদ্ধে নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আচরণকে অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও মানবিক প্রশিক্ষণ জোরদার, নিয়মিত ব্রিফিং, দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব বৃদ্ধি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার মতো সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে নাঈম হাসানের গাড়িতে তল্লাশি চালানোর যে দাবি করা হয়েছিল, সেই তথ্যের উৎস সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে এসেছে—এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ কমিশনার।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসায় যাওয়ার পথে লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানের অটোরিকশা থামায় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন এবং পরে থানায় নিয়ে গিয়ে আরও হেনস্তা করেন। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান।

ঘটনার পরদিন পুলিশ কমিশনার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ