দিনাজপুরে নদীতে গোসলে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবন নতুন করে শুরু করতে শুক্রবার ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দুলালী খাতুনের (২৩)। সে অনুযায়ী বাসের টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যাত্রার আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশের মরা কাল নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় তার। একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর ছোট বোন সুরভী খাতুন (১৩) এবং ভাবি সুমাইয়া আকতারও (১৯)।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাজার এলাকায়। একই পরিবারের তিনজনের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারটির সদস্যরা; নিহতদের দাদা আতাউর রহমান কথা বলার মতো অবস্থায় নেই বলে জানা গেছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দাদা আতাউর রহমান জানান, মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই দুলালীর স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। দুলালীর বাবা দুলাল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন, আর শুক্রবার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া সুরভীকে নিয়ে দুলালীর ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। যাত্রার আগের দিন দুপুরে তিনজন একসঙ্গে বাড়ির পাশের নদীতে নামার পরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আতাউর রহমানের ধারণা, তারা সম্ভবত নদীতে শাপলা ফুল তুলতে গিয়েছিলেন এবং একে অপরকে বাঁচাতে গিয়েই তিনজনই পানিতে তলিয়ে যান।
তিনজনকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে গ্রামবাসী পানিতে নেমে তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নদীর পাড়ে তাঁদের কিছু কাপড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা স্পষ্ট নয়।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহেদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনাকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারটি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক উজ্জ্বল কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একই পরিবারের তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত না করেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির পাশে থাকবে।
মতামত দিন