Views Bangladesh Logo

চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ‘২৯০ ভরি স্বর্ণ’ উদ্ধার: সাবেক পুলিশ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

ট্টগ্রাম নগরীতে স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ২৯০ ভরি উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার ভোরে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় ৩৫০ ভরি ওজনের স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে শুক্রবার বিকেলে পাঁচলাইশ থানায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাশ (৪২), তার স্ত্রী পান্না দাশ (৩৮), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ইমন (২২), সুমনের চাচাতো ভাই রবি চন্দ্র দাশ (৪০) ও তথ্যদাতা বিবেক বণিক (৪২)।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, সবুজ দেবনাথ নামে এক স্বর্ণকার তাঁর সহযোগীসহ ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে নগরীর সাবেরিয়া এলাকা থেকে অক্সিজেনের দিকে যাচ্ছিলেন। আতুরার ডিপো এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে তাদের মারধর করে স্বর্ণের বারগুলো ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। ওই দল বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমন চন্দ্র দাশ, ইমন ও বাইক বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

আমিরুল ইসলাম আরও জানান, ছিনতাই করা স্বর্ণের একটি অংশ সুমনের স্ত্রী পান্না দাশ ও চাচাতো ভাই রবি দাশের কাছে রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার রায়েরবাজার থেকে রবি দাশকে এবং চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে পান্না দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার মোহাম্মদপুরে রবির বোনের বাসা থেকে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার (উত্তর) হামিদুর রহমান জানান, ছিনতাইয়ের নেতৃত্বে থাকা সুমন চন্দ্র দাশ আগে পুলিশের এএসআই ছিলেন। এর আগেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. আব্দুল করিম বলেন, ভুক্তভোগী সবুজ দেবনাথ নগরীর হাজারী লেইনের কৃষ্ণ চন্দ্র কর্মকারের মালিকানাধীন একটি জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী। সবুজসহ তিনজন দোকানের ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে অটোরিকশায় করে বায়েজিদ বোস্তামীর দিকে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন।

ওসি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বিবেক বণিক ও সবুজ দেবনাথ একই দোকানে কাজ করতেন। বিবেকের মাধ্যমে সাবেক এএসআই সুমনের কাছে স্বর্ণ বহনের তথ্য পৌঁছায়। এরপর সুমন পুরো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ