মালয়েশিয়ায় নথি জালিয়াতি চক্রের ২৭ বাংলাদেশি আটক
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির এক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আটককৃতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারীকে ওই জালিয়াাত চক্রের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে ‘অপস সেরকাপ’ নামে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘মালয় মেইল’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বিপুল পরিমাণ জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাস (ই-পিএলকেএস) ও ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ রিপোর্ট ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার আলোচনা যখন গতি পাচ্ছে, ঠিক তখনই এই বড় অভিযানের খবর এলো। অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগে ২০২৪ সালে কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয় মালয়েশিয়া। সম্প্রতি বাজার চালুর প্রক্রিয়ায় আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটি। এর আগে সরকারি সংস্থা ‘বোয়েসেল’সহ মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্যের ভিত্তিতে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে বাংলাদেশ সরকার।
মতামত দিন