অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে মব ও গণপিটুনিতে নিহত ২৫৯ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদন
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক—এমন দাবি করেছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির মতে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, মব ভায়োলেন্স এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এতে নাগরিক নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হেফাজতে নির্যাতনে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে মারা গেছেন ১২৭ জন আসামি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। সীমান্তে ১১০টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৩ জন বাংলাদেশি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ১৬ জন।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে