Views Bangladesh Logo

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

ছয় মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ২৫৭ ঘটনা, ৪৪ জনের প্রাণহানি

চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশে অন্তত ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ জন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে তারা তুলে ধরেছে আট দফা দাবি।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন; এই ছয় মাসের সময়সীমায় দেশীয় সংবাদমাধ্যম ও সংগঠনের নিজস্ব সূত্রের ভিত্তিতে এসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি, কেননা প্রতিবেদনে যা এসেছে তা প্রকৃত চিত্রের একটি খণ্ডাংশ মাত্র।

সংগঠনের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, ৪০টি ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪৪। এর বাইরে উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ সংক্রান্ত ৬২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি। উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৫টি ক্ষেত্রে। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৪৭টি, অপহরণ-চাঁদাবাজি-নির্যাতনের ঘটনা ১০টি এবং হামলা বা হত্যার হুমকির ঘটনা ৪২টি বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ এসেছে ২১টি ঘটনায়।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জসহ একাধিক জেলার কয়েকটি আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ঐক্য পরিষদ বলছে, এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হামলা, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি ইস্যুতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সংগঠনটি। তাদের ভাষায়, এই গ্রেপ্তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ প্রসঙ্গে তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকেও মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানায় ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কোনো প্রতিকার বর্তমান সরকারের সময়েও দৃশ্যমান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় আট দফা দাবিও তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে: সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ, জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা চালু, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন পাস, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ