Views Bangladesh Logo

দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ২৫ আদিবাসী সংগঠনের বিবৃতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আদিবাসী পরিচয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ২৫টি আদিবাসী ছাত্র, যুব, নারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দুই মন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর, ইতিহাস ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে তারা।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দুই মন্ত্রী বক্তব্য দেন। এরপরই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নয়।’ তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় বাংলাদেশি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই।

একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন।

২৫ সংগঠন বলেছে, দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্য তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ। বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ৫০টির বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রথা ও জীবনধারা নিয়ে বসবাস করছে।

সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে আদিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠী বর্তমানে নিজেদের জাতীয় অস্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সংকটের মুখে রয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. বাংলাদেশের আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

২. আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ভূমি, ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জ্ঞান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ২০০৭ সালের জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ খেয়াং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন, হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিল, বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, খাসিয়া স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ