খুলনায় পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ২২ দিনের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, পিতা গ্রেপ্তার
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে ২২ দিনের নবজাতক মোনতাসির শেখের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা নাহিদুর রহমান শেখ (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার নাহিদুর দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের সেনহাটি গ্রামের মাসুদুর রহমান শেখের ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার মৌয়ের সঙ্গে নাহিদুরের বিয়ে হয়। ২২ দিন আগে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, যার নাম রাখা হয় মোনতাসির শেখ। সন্তান জন্মের পর মৌ বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
গত ২ মার্চ বিকেলে নাহিদুর শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন সকালে তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি শিশুটিকে হত্যা করে পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে মাটিচাপা দেন।
পরে ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জানান, শিশুটিকে তিনি বাড়িতে রেখে এসেছেন। এরপর স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তিনি দাবি করেন, শিশুকে ফরিদপুরে পাওয়া যাবে। ফরিদপুরের কাছাকাছি পৌঁছালে নাহিদুর অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী তাদের সন্তানকে হত্যা করেছেন। এ সময় হাসপাতালের কর্মীরা নাহিদুরকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিষয়টি দিঘলিয়া থানাকে জানালে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুর নিজের শিশুসন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত দিন