১৩ বছর আগের ‘পাপাউতে’ গানে মজেছে নেটিজেনরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল গানের তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়ান শিল্পী স্ট্রমির ‘পাপাউতে’। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই বেলজিয়ান হিপ-হপ গানটি ২০২৬ সালে এসেও নেটিজেনদের মাঝে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। রিল আর ভিডিওর ভিড়ে গানটি যখন ভাইরাল হচ্ছে, তখন অনেকেই জানেন না এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুকভাঙা বেদনার গল্প।
‘পাপাউতে’ মূলত একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ ‘বাবা, তুমি কোথায়?’ গানটির প্রতিটি কথা ও সুরে ফুটে উঠেছে বাবা না থাকার গভীর যন্ত্রণা। আর সেই যন্ত্রণার শিকড় প্রোথিত আছে ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ রোয়ান্ডা গণহত্যার নৃশংস ইতিহাসে।
বেলজিয়ান এই গায়ক ও প্রযোজকের আসল নাম পল ভ্যান হেভেন। মাত্র নয় বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যের মুখোমুখি হন তিনি। রোয়ান্ডা গণহত্যা চলাকালে নিজ পরিবারকে দেখতে গিয়ে প্রাণ হারান তার বাবা। কিন্তু শোকটা আরও গভীর ছিল অন্য কারণে। কর্মসূত্রে বাবা বেলজিয়াম ও রোয়ান্ডার মধ্যে যাতায়াত করতেন বলে সারাজীবনে মাত্র বিশবারের মতো বাবার দেখা পেয়েছিলেন স্ট্রমি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি আমার কাছে অদৃশ্য ছিলেন। তাই তার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আমি কাঁদতেও পারিনি। শৈশবে যে বাবাকে দেখা যায় না, তাকে পরে আর ফেরানো সম্ভব নয়।’
সেই হাহাকার বুকে নিয়েই ২০১৩ সালে ‘রাসিন কারি’ অ্যালবামের জন্য গানটি তৈরি করেন তিনি। গানের ভিডিওতে দেখা যায়, জ্যামিতিক নকশার পোশাক পরে নির্বাক পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছেন গায়ক, আর তাকে ঘিরে ড্রাম বাজাচ্ছেন আদিবাসী ঢাকিরা। বাবা থাকা আর থেকেও না থাকার মাঝের যে শূন্যতা, সেটিই গোটা গানজুড়ে অনুভব করা যায়।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে স্ট্রমির ‘আলোর্স অন ডান্সে’ গানটি একসঙ্গে ১৭টি দেশে সুপারহিট হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম অ্যালবাম ‘চিস’। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ‘পাপাউতে’র আবেদন এতটুকু কমেনি— বরং সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে সেই পুরনো বেদনার সুর।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে