Views Bangladesh Logo

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২০, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রথম দফায় এবং মাগরিবের আজানের সময় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়।

সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় পুলিশি প্রটোকলে ওই সড়ক দিয়ে নিজ বাসায় ফিরছিলেন আমির হামজা। তার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আমির হামজার সমর্থক ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল ইসলাম ও রাকিব হাসান বলেন, গাড়িবহরটি সমাবেশস্থলের কাছে পৌঁছালে একটি গাড়ি থেকে কয়েকজন লাঠি হাতে নেমে আসেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন। নুরুল হক নুরকে নিয়ে আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, সমাপনী বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যের গাড়িবহর সেখানে আসে। এ সময় কয়েকজন জামায়াতের কর্মী তাদের সামনে গিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং পরে হামলা চালান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যের গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ছয় রাস্তার মোড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। সংসদ সদস্যের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ