রাউজানে ফের বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষ। এতে আহত হয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারসহ অন্তত ২০ নেতা-কর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে খোন্দকারের মাইক্রোবাসসহ কয়েকটি গাড়ি।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকালে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তরঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিএনপির প্রয়াত নেতা মহিউদ্দীন আহমেদের কবর জিয়ারতে রওনা হয়েছিলেন গোলাম আকবর খোন্দকার। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে সত্তরঘাটে পৌঁছায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে।
আগামী ৯ আগস্ট রাউজানে জুলাই শহীদদের স্মরণে রাউজান কলেজ মাঠে বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আজ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাউজান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সম্পাদক নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন কুমার নাথ, এপিএস আসিকুর রহমান, যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন, বিএনপি নেতা আওরঙ্গজেব সম্রাট, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন মিনহাজ ও মোহাম্মদ হুমায়ুন।
খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন জানান, স্যারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গলার পাশ ঘেঁষে গুলি চলে গেছে, এখনও রক্তপাত হচ্ছে। পরে খোন্দকারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
খোন্দকার গোলাম আকবর বলেন, আমি আগেই সংবাদ পেয়েছিলাম হামলার আশঙ্কা আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিলাম, তারা আশ্বস্ত করেছিল নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু সত্তরঘাট ব্রিজ পার হতেই ৫০-৬০ জন আমাদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, রাউজানে বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয়পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে