পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গাজীপুরে ২০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২টি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
এ সময় শ্রমিকেরা মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের পর আশপাশের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অন্তত ১২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন