কর্ণফুলীতে নৌযানে বিস্ফোরণ: ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই নাবিকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরার নৌযানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয় নাবিকের মধ্যে দুজন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- নৌযানটির গ্রিজার (ইঞ্জিন বিভাগের কারিগরি কর্মী) মো. রুবেল (৩৩) ও শাহ আলম (৩৮)।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের মাছ ধরার নৌযানে হঠাৎ বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে ওই নৌযানের ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার রুবেল ও শাহ আলমসহ পাশেই নোঙর করা ‘এফভি ডিসনি’ নৌযানের নাবিক নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদ দগ্ধ হন।
দগ্ধদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে প্রায় শতভাগ দগ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হলে পথেই রুবেল ও শাহ আলমের মৃত্যু হয়।
নিহত শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালীতে। বুধবার সকালে জানাজা শেষে তাকে নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। একই দিন পটুয়াখালীর গলাচিপায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় মো. রুবেলকে।
এদিকে, ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমের শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নৌযানটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে একাধিক নাবিক দগ্ধ হন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ এস. খালেদ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি তিন নাবিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মতামত দিন