Views Bangladesh Logo

‘মুক্তিপণ’ নিতে এসে ধরা এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে এসে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে ‘মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে আটক নেতাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আটক হন আরও তিনজন।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নুরন্নবী জানান, পাঁচজনকেই অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য বলে পুলিশের দাবি করা হাসীন ইসরাক মিম (২২), মিনাজ (২৯), প্রেম (২২) ও হৃদয় ইসলাম (২২)।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে (৫৮) রোববার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁর পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে একটি প্রাইভেট কার থেকে সামাদকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে ধরা হয় আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে।

পুলিশ আরও জানায়, আটক নেতাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও যুবশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে আসেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় পরে আটক করা হয় মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। পরে উত্তেজনা দেখা দিলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি নুরন্নবী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত একটি বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

এদিকে গ্রেপ্তার হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন বলে দাবি করেছেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ