বরিশালে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
বরিশালে একটি আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধর করে জোরপূর্বক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নগরের ‘টপ টেন’ এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি মডেল থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার পর তাদের আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ হাওলাদারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরের সদর রোড এলাকায় অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে লিটুসহ কয়েকজন সহযোগী প্রবেশ করে তাকে মারধর ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক এবং ছয়টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনার পর তিনি দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা ওই চেক ভাঙাতে পারেননি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, লিটু একসময় তাদের আবাসন কোম্পানির ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। ২০২৩ সালে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয়ের সব আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি হয় এবং এ বিষয়ে লিখিত ঘোষণাপত্রও দেওয়া হয়। এরপরও গত কয়েক মাস ধরে লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে লিটুকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হলেও বরিশাল মহানগর যুবদল তা অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লিটু কখনো যুবদলের কোনো পদে ছিলেন না এবং তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে লিটুর ভাই ও বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু দাবি করেন, ঘটনাটি যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে সেভাবে ঘটেনি।
বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই রোববার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে অফিসে ঢুকে আবদুল আজিজকে ঘিরে ধরতে, মারধর করতে এবং তার সামনে চেক ও স্ট্যাম্প রেখে জোরপূর্বক সই করাতে দেখা যায়। তবে অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মতামত দিন