কুষ্টিয়ায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগে এমপির চাচা ও পিএস গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এলঙ্গী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও মারুফ হোসেন (৩৫)। তাঁদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের চাচা বলে জানা গেছে। মারুফ হোসেন নিজেকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দেন বলে মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কুমারখালী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি ও কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আহসান উল্লাস। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, ভাই আনোয়ার হোসেন এবং রুহুল আমিনসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় থেকে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের পরিস্থিতি দেখেন। এ সময় সাংবাদিক উল্লাসকেও সেখানে ডাকা হয়। পরে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় উল্লাসের মাথা, চোখের নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন বেকি, রামদা, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরাটির মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আহত উল্লাসকে পরে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়। রোববার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন। সেখানে বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন