সিলেটে ১০১৬ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সিলেটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সামগ্রী নিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে রওয়ানা হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১ হাজার ১৬টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭৮৭টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৯৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ জন, নারী ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৬ জন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও বাজার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সিলেট জেলার ছয় আসনে ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে থাকবেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনের নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অন্য আসনগুলোতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ প্রস্তুতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করবেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচনি আইন ভঙ্গের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিন পর ভোট নিয়ে মানুষের যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে, তা একটি স্মরণীয় নির্বাচনে পরিণত হবে।
তিনি আরও জানান, সিলেটে প্রায় ৪২ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালেটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার পোস্টাল ব্যালেট ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে।
জেলার ১ হাজার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২২টি জেলা পুলিশের এবং ২৯৪টি মহানগর পুলিশের আওতাধীন। সিলেট মহানগর পুলিশের আওতায় সিলেট-১ এবং সিলেট-৩ আসনের আংশিক এলাকা রয়েছে; বাকি চারটি আসন জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে।
সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মহানগর এলাকায় ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ১৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৫টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. সম্রাট তালুকদার জানান, জেলা পুলিশের আওতায় থাকা ৭২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬১৯টি সাধারণ এবং ১০৩টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। সব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন জানান, সিলেট বিভাগের মোট ২ হাজার ৯৩৭টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। সিলেট সদর আসনের ২১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ধাপে ১০৫টিতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স ও সিলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিকেলের মধ্যে সব কেন্দ্রে সামগ্রী পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স মাঠে সক্রিয় থাকবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসিটিভি ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এদিকে বিকেলে সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নগরীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে