Views Bangladesh Logo

মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে: টিআইবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে শিক্ষা খাত নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। সেখানেই শিক্ষা খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

শিক্ষা খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টিআইবি জানায়, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা গেছে। সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন ও প্রভোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া উপাচার্য নিয়োগ, পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি ব্যবস্থা চালু, প্রতিবন্ধী শিশুদের বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রণয়ন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ