সাময়িক বন্ধ থাকছে ১৯ ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ডিজিটাল সেবা
নির্ধারিত সিস্টেম আপগ্রেড ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে দেশের ১৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্ড লেনদেন, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) লেনদেন, ই-কমার্স, কিউআর কোড পেমেন্ট এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন তহবিল স্থানান্তর ও কার্ড লেনদেন।
ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
সেবা বিঘ্নিত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।
ব্যাংকভেদে সেবা বন্ধ থাকার সময়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে কয়েক ঘণ্টা, আবার কোথাও কয়েক দিন পর্যন্ত সেবা বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে। একই সময়ে ১৯টি ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ ও সিস্টেম মাইগ্রেশন চলায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে নগদ টাকা উত্তোলন এবং অনলাইন বা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করতে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
গ্রাহকদের উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করেই ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সিস্টেম আপগ্রেডের কাজ করে থাকে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংক স্বাধীনভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে কাকতালীয়ভাবে ১৯টি ব্যাংকের সিস্টেম আপগ্রেডের সময়সূচি একই সময়ে পড়েছে।’
আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। গ্রাহকদের যাতে আগে থেকেই বিষয়টি জানানো হয়, সে জন্য আগাম নোটিশ ও এসএমএস পাঠানোর বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সব সেবা ধাপে ধাপে সচল করা হবে। তবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি শাখাভিত্তিক কাউন্টার লেনদেন চালু থাকবে।
মতামত দিন