দেশের ১৭ কারাগার উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ: কারা মহাপরিদর্শক
বাংলাদেশের ৬৯টি কারাগারের মধ্যে ১৭টি উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। বুধবার রাজধানীতে কারা অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, এসব কারাগারের অনেকগুলোর বয়স বহু পুরনো এবং দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সরকার নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
মোতাহের হোসেন জানান, বন্দিদের জন্য খাবারের মান উন্নত করা হয়েছে, যাতে তারা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়। খাবারের মেন্যুতে বেশি পরিমাণ প্রোটিন যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কারাগারে চিকিৎসা সেবা উন্নত করতে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারাগারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের জন্য বিশেষ সেলে মোবাইল জ্যামার স্থাপন ও প্রতিদিন তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সব সময় নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
কারা ব্যবস্থায় দুর্নীতি রোধে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা বদলি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে কারাগারগুলোকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহযোগিতায় বন্দিদের জন্য পোশাক তৈরি প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এতে মুক্তির পর তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কারাগারের ওয়ার্কশপগুলো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে এবং নতুন উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া কারাগারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অবদান রাখা হচ্ছে, জানান কারা মহাপরিদর্শক।
তবে কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে পৃথক সেলের অভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেন আইজি। তিনি বলেন, এসব সেল তৈরির সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের।
এই সকল উদ্যোগ কারাগার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক।
এছাড়া ৫ আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে ২২ শর বেশি কারা বন্দি পালিয়েছিল। ১৫শ জনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ৭০০ বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় দাগি আসামি বা যাদেরকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে তাদের ১১ জন মুক্তি পেয়েছেন। জঙ্গি সদস্যদের যাদের বলা হচ্ছে যারা জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলা হয়েছে তাদের ১৭৪ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
পালানো বিভিন্ন আলোচিত মামলা ও জঙ্গি সদস্যের মধ্যে এখনো পলাতক ৭০ জন। তাদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে