Views Bangladesh Logo

খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম

খুলনার দাকোপে রামনগর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবিভাবকরা জানিয়েছেন, আহত সবাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ক্লাস চলাকালীন সময়ে হৈচৈ করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক তরুণ কুমার মন্ডল তাদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় চলাকালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কিছুটা শব্দ বা হট্টগোল করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সহকারী শিক্ষক তরুণ কুমার মন্ডল। এক পর্যায়ে তিনি ক্লাসের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে বাঁশের কঞ্চির লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।

এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করতে শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সুধী সমাজ ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুকুমার গাইন।

সভা চলাকালে উপস্থিত অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষক তরুণ মন্ডলকে দ্রুত এই স্কুল থেকে বদলি করার জোর দাবি জানান। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে ‘এখনই বদলি করা সম্ভব নয়’ বলে জানালে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিভাবকরা একযোগে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তরুণ মন্ডল অপরাধ স্বীকার করে বলেন, 'ভুলবশত এই ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমার মাথায় হঠাৎ যে সে সময় কি হয়েছিলো আমি নিজেই জানি না। এমন ভুল আমার শিক্ষকতা জীবনে আগে কখনও হয়নি। আমি এই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত এবং প্রতিটি অভিভাবকের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছি।'

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক কান্তি রায় বলেন, 'এই বর্বরোচিত ঘটনায় আমরা নিজেরাও অত্যন্ত ব্যথিত। ঘটনার দিন আমি উপজেলা সদরে দাপ্তরিক কাজে ছিলাম। আমি স্কুলে উপস্থিত ছিলাম না। উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য অভিভাবক ও সুধী সমাজকে নিয়ে বসা হয়েছিলো। অভিভাবকরা ওই শিক্ষককে বদলির দাবি তুলেছেন। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবী বদলির একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া থাকায় তাৎক্ষণিক তা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।'

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা আক্তার বলেন, 'এ ঘটনায় আমি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হবে।'

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ