চিকিৎসক আসাদুরের কাছে হামলার আগে চাওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার চাঁদা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের কাছে হামলার আগে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই বার্তায় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আসাদুর রহমান বলেন, বার্তায় ১৫ আগস্টের মধ্যে চাঁদা পরিশোধের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি এবং ভুয়া কোনো গোষ্ঠী এ ধরনের বার্তা পাঠিয়েছে বলে মনে করেছিলেন। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে তার ওপর হামলা হয়।
চিকিৎসকের ভাষ্য, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চারজন তার পথরোধ করেন। তারা অটোরিকশার দরজা খুলতে বলেন। পরে দরজা খোলার পর তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা দাবি করেন, তিনি একজনের বোনকে ভুল চিকিৎসা করেছেন। তবে ওই রোগীর পরিচয় বা চিকিৎসার বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দেননি।
হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই নম্বর থেকে তার কাছে ‘হাউ ডু ইউ ফিল নাও’ লেখা বার্তা আসে। পরদিন আরও দুটি বার্তা পাঠানো হয়—‘তুমি কি আরও ঝামেলা করতে চাও?’ এবং ‘তোমার কাছে কি আমরা মিডিয়ার লোকজন পাঠাব?’
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় লোকজন জীবন নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। আসাদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি বলেন, কেউ একজন তাকে জানিয়েছিল চিকিৎসকের অনেক টাকা আছে এবং তাদের সঙ্গে গেলে তাকে একটি মুঠোফোন কিনে দেওয়া হবে। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করেছেন আসাদুর রহমান। এজাহারে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও ডেভিড ইমনের নাম ও হামলার পর পাঠানো বার্তাগুলোর কথা উল্লেখ নেই।
পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তবে থানা-পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট নন আসাদুর রহমান। তিনি মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জীবনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মতামত দিন