Views Bangladesh Logo

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে ১৫০ কূপ খনন, বাড়ছে এলএনজি সক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাসকূপ খনন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের ২১টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাপেক্স বডির নেতাদের মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন কারিগরি সমস্যার কারণে অচল থাকায় গ্যাস সরবরাহে নির্ভরতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল। এখন দুটি টার্মিনাল সচল রাখার পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্ভব হলে আরও একটি এফএসআরইউ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এ সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে।

দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। প্রথম ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভর না করে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার বিষয়েও কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও জ্বালানির উৎসে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করে সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন বলে জানান মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে। সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ একসঙ্গে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ