Views Bangladesh Logo

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১৫ জাহাজ, কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে আসছে কার্গো

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ নিরাপদে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে পৌঁছাতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছে আরেকটি জাহাজ, যা বর্তমানে পথে রয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ১৫টি জাহাজ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম গণমাধ্যমকে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। বন্দরে জাহাজ ভিড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।"

জানা গেছে, জাহাজগুলোর মধ্যে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আসা এলএনজি বোঝাই 'আল জোর' ও 'আল জাসাসিয়া' ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। এছাড়া এলপিজি বহনকারী 'সেভান' রোববার, 'লুসাইল' সোমবার এবং 'আল গালায়েল' আগামী বুধবার বন্দরে পৌঁছাবে। এসব জাহাজে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার গ্যাসের চাহিদা মেটাবে।

অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এলএনজি কার্গো জাহাজ পাঠিয়েছে কাতার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ এবং ফোর্স ম্যাজেউর (অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তি পালনে অক্ষম) ঘোষণা করেছিল কাতার। তারই মধ্যে 'লেব্রেথাহ' নামের এই জাহাজটি শুক্রবার (৬ মার্চ) রাস লাফান টার্মিনাল ত্যাগ করে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজটি বর্তমানে পথে রয়েছে এবং আগামী ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই চালান শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, চলমান সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য তা কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। যদিও ইরান নিশ্চিত করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়নি, কেবল মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ