Views Bangladesh Logo

জামালপুরে দিনে ১৪-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে জামালপুরের সাত উপজেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শহরের পাশাপাশি বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ আওতাধীন গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গরমের দুর্ভোগের পাশাপাশি পানির সংকট ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে গত বুধবার (১২ আগস্ট) জামালপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে সমিতি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম।

সমিতির মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দৈনিক প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।

এ কারণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কোনো কোনো এলাকার গ্রাহকদের গড়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এর পরিমাণ আরও বেশি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে দুর্ভোগের পাশাপাশি জনরোষও তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের ঘটনাও ঘটেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সাহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব স্থাপনায় কোনো সমস্যা হলে হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বেন। বর্তমান লোডশেডিং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ইচ্ছায় হচ্ছে না; জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ পাওয়ার কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ১৯টি উপকেন্দ্র ও ১৯টি সুইচিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্থাপনার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলার লাখো গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ