লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৪০ অভিবাসী
লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় ১৪০ জন অভিবাসীকে নিয়ে অবতরণ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সহযোগিতার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এই লক্ষ্যে দূতাবাসের টিম একাধিকবার দারনা শহর সফর করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এছাড়া, দূতাবাসের পক্ষ থেকে দারনা ও আল-বাইদা শহরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদেরকে জরুরি ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তবে দারনা শহরে বন্যা কবলিত প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ বৈধ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে দেশে প্রত্যাবাসনে কিছুটা বিলম্ব হয়।
বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসনকৃত বাংলাদেশিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর কর্মকর্তাবৃন্দ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় আইওএম এর পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পকেট মানি হিসেবে ৫ হাজার ৯১৯ টাকা এবং কিছু খাদ্যসমগ্রী উপহার দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (কল্যাণ) মোস্তফা জামিল খান বিমানবন্দরে ফিরে আসা অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক অভিবাসীদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর লিবিয়াতে তাদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রতিবেশী ও আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। অবৈধ উপায়ে টাকা খরচ করে কিংবা দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে আর কেউ যাতে যাত্রা না করে সে বিষয়ে পরিচিতদের সচেতন করতে অভিবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, লিবিয়ায় বিপদগ্রস্তসহ বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইওএম এক সঙ্গে কাজ করছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত ত্রিপলি ও বেনগাজীর ডিটেনশন সেন্টারে আটকসহ বিপদগ্রস্ত মোট ৯৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দ্রুতই অনিয়মিত বাংলাদেশিদের লিবিয়া থেকে প্রত্যাবাসন করা হবে বলে জানানো হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে