ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সিলেট জেলা
সিলেট জেলায় এবার ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এবার নতুন করে ভোটের হিসাব করছে জেলাবাসী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকলেও লড়াইতে চমক দেখাতে পারে জাতীয় পার্টিও। এক নজরে দেখে আসি সিলেট জেলার ৬টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
সিলেট -১ (সংসদীয় আসন ২২৯): সিলেট-১ আসনটি সিলেট জেলার সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬,৮০,৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৩,৫৩,১৮৬ জন, নারী ভোটার ৩,২৭,৭৪৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সঞ্জয় কান্ত দাস বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। আকমল হোসেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ শামীম মিয়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মাহমুদুল হাসান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রনব জ্যোতি পাল বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে মই প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মাওলানা হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের খন্দকার আব্দুল মালিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী আসনটি দখল করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাইফুর রহমান সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত দখল করেন।
সিলেট-২ (সংসদীয় আসন ২৩০): সিলেট-২ আসনটি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলা, ওসমানী নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৬৮,৯৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৮৮,৬৭৯ জন, নারী ভোটার ১,৮০,২৫৩ জন এবং হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মুজিবুল হক গণফোরাম থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুহাম্মদ মুনতাছির আলী খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোঃ আমীর উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহবুবুর রহমান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোছা: তাহসিনা রুশদীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জুন ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাহ আজিজুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এম. ইলিয়াস আলী দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সিলেট-৩ (সংসদীয় আসন ২৩১) : সিলেট-৩ আসনটি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এবং বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। পূর্বে বালাগঞ্জ উপজেলার শুধু ৩টি ইউনিয়ন দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন ও পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৮ সালের সীমানা পুনঃনির্ধারনে বালাগঞ্জ উপজেলার সবগুলি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৬,০০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,১১,৭০৯ জন, নারী ভোটার ২,০৪,২৮৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুসলেহ উদ্দিন রাজু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মইনুল বাকর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রেদওয়ানুল হক চৌধুরী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টির আবদুল মুকিত খান দখল করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শফি আহমেদ চৌধুরী আসনটি দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সিলেট -৪ (সংসদীয় আসন ২৩২) : সিলেট-৪ আসনটি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, গোয়াইনঘাট উপজেলা ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১২,৯৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৬৭,১৩০ জন, নারী ভোটার ২,৪৫,৮০২ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ জয়নাল আবেদীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরিফুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাওলানা সাঈদ আহমদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। জহিরুল ইসলাম গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরে ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দিলদার হোসেন সেলিম আসনটি দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সিলেট-৫(সংসদীয় আসন ২৩৩): লেট-৫ আসনটি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলা ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,২৮,৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,২১,৩৫৭ জন, নারী ভোটার ২,০৭,৩৯১ জন এবং হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উবায়দুল্লাহ ফারুক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ আবুল হাসান খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোঃ বিলাল উদ্দিন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ইসলামী ঐক্যজোটের ওবায়দুল হক দখল করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমেদ মজুমদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আসনটি দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমেদ মজুমদার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সিলেট-৬ (সংসদীয় আসন ২৩৪) : সিলেট-৬ আসনটি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,০৯,০৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৫৬,৯৩৮ জন, নারী ভোটার ২,৫২,১৫৫ জন এবং হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ আবদুন নূর জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাহিদুর রহমান গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এমরান আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টির শরফ উদ্দিন খসরু দখল করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মকবুল হোসেন দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে