ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সুনামগঞ্জ জেলা
সুনামগঞ্জ জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে সুনামগঞ্জ ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
সুনামগঞ্জ -১ (সংসদীয় আসন ২২৪) : সুনামগঞ্জ-১ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা, মধ্যনগর উপজেলা, তাহিরপুর উপজেলা ও জামালগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনেমোট ভোটার সংখ্যা ৫,০১,৫৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৫৬,১৮৫ জন, নারী ভোটার ২,৪৫,৩৬০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কামরুজ্জামান কামরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি থেকে বই প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে নজির হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল হক বিজয় লাভ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি আবার পরিবর্তন হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী নজির হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ -২ (সংসদীয় আসন ২২৫) : সুনামগঞ্জ-২ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,০৬,০৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৫৪,৬৫২ জন, নারী ভোটার ১,৫১,৩৯৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
প্রার্থী : এই আসনে মোট ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নিরঞ্জন দাস বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ নাছির চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ শিশির মনির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জয়ী হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে নাসির উদ্দিন চৌধুরী দখল করেন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ -৩ (সংসদীয় আসন ২২৬): সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭৩,০১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৮৯,২৪৩ জন, নারী ভোটার ১,৮৩,৭৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ৬ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শেখ মুশতাক আহমদ খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তালা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হুসাইন আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। সৈয়দ তালহা আলম আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পরবর্তী জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হন। ২০০৫ সালের উপ-নির্বাচনে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহীনুর পাশা চৌধুরী দখল করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এম. এ. মান্নান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ -৪ (সংসদীয় আসন ২২৭): সুনামগঞ্জ-৪ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭২,১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১,৮৯,৩৫৯ জন, নারী ভোটার ১,৮২,৮১৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ নাজমুল হুদা জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ সামছ উদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। শহীদুল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবদুস জহুর মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ফজলুল হক আছপিয়ার দখলে থাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে বেগম মমতাজ ইকবাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ -৫ (সংসদীয় আসন ২২৮) : সুনামগঞ্জ-৫ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা ও ছাতক উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,২৭,৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৭০,৬২০ জন, নারী ভোটার ২,৫৬,৮৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। কলিম উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ আজিজুল হক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে আম প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোহাম্মদ আব্দুল কাদির খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন আবদুল মজিদ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। একই বছর জুন মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মুহিবুর রহমান মানিক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জয়ী হন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মুহিবুর রহমান মানিক আবারো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে