ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: শরীয়তপুর জেলা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে শরীয়তপুর জেলা দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রায় সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জেলার তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রভাবশালী জয় পেয়েছেন। বিরোধী দলগুলো কখনোই শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের আধিপত্যকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় শরীয়তপুর জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। ফলে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শরীয়তপুর জেলার ৩টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
শরীয়তপুর-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২২১): জেলার শরীয়তপুর সদর উপজেলা ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে শরীয়তপুর-১ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৩,৯৫,৪৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,০৭,৭৩০, নারী ১,৮৭,৭৩৬ ও হিজড়া ভোটার ১০ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে মো. আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি) থেকে একতারা প্রতীকে নুর মোহাম্মদ মিয়া, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীকে জালালুদ্দীন আহমদ ও স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৯১ সালে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৯৬ সালে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মজিবুর রহমান, ২০০১ সালে স্বতন্ত্র কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বি. এম. মোজাম্মেল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শরীয়তপুর-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২২২): শরীয়তপুর-২ আসনটি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ৪১৫১৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১৫৯৯৩, নারী ১৯৯১৪০ ও হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. সফিকুর রহমান (কিরন), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে আখতারুজ্জামান সম্রাট, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে জসিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র সোফা প্রতীকে মো. নাসির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীকে মাহমুদুল হাছান, জনতার দল থেকে কলম প্রতীকে পারভেজ মোশারফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাহমুদ হোসেন ও স্বতন্ত্র কম্পিউটার প্রতীকে মো. আলমগীর হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শওকত আলী, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শওকত আলী, ২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শওকত আলী ও ২০০৮ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শওকত আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শরীয়তপুর-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২২৩): জেলার ডামুড্যা উপজেলা, গোসাইরহাট উপজেলা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে শরীয়তপুর-৩ আসনটি গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৪০,১৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৭৪,০৬৮, নারী ১,৬৬,০৭২ ও হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে হানিফ মিয়া, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. আব্দুল হান্নান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে