Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: সাতক্ষীরা জেলা

ভোটের মাঠে সাতক্ষীরা জেলায় আওয়ামী লীগ অবস্থান বরাবরই ভালো ছিলো। দেশে বিগত দিনে অনুষ্ঠিত মোটামুটি স্বচ্ছ (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) নির্বাচনগুলোর ফলাফলে তেমনটাই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে জেলার ভোটের চিত্রও। এই জেলায় এবার লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক সাতক্ষীরা জেলার ৪টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।


সাতক্ষীরা -১ (সংসদীয় আসন ১০৫): সাতক্ষীরা-১ আসনটি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা আর তালা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪,৯৬,৮৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৪৭,৮৭৩ জন এবং নারী ভোটার ২,৪৮,৯৭৩ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ২ জন।

প্রার্থী:  আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী পাচ জন। নির্বাচনে মো ইয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ডাব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে শেখ মো: রেজাউল করিম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো ইজ্জত উল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে মো হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আনসার আলী বিজয়ী হন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সৈয়দ কামাল বখত বিজয় লাভ করেন। ১৯৯৯ সালের উপ-নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের বি এম নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সাতক্ষীরা -২ (সংসদীয় আসন ১০৬): ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা-২ আসনটি সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিলো। ২০২৫ সালের ৪সেপ্টেম্বর সীমানা পরিবর্তন করে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ও দেবহাটা উপজেলা করা হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৩৫,৬৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬৫,৯৬৫ জন এবং নারী ভোটার ২৬৯,৬৮৫ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ৪ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী পাচ জন। মো আব্দুর রউফ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতী রবীউল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) থেকে মো: ইদ্রিস আলী মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। এছাড়া, জাতীয় পার্টির মো আশরাফুজ্জামান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

এই আসনে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী শামসুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও এই আসন থেকে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে একই দল থেকে আব্দুল খালেক মন্ডল নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এম. এ. জব্বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সাতক্ষীরা -৩ (সংসদীয় আসন ১০৭): ২০২৪ সাল পর্যন্ত, সাতক্ষীরা-৩ আসনটি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা, কালীগঞ্জ উপজেলা, দেবহাটা উপজেলা, চাম্পাফুল ইউনিয়ন, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন, তারালী ইউনিয়ন, নলতা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিলো। ২০২৫ সালে পরিবর্তন করে আশাশুনি উপজেলা, কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত করা হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫,০২,২২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৫৩,৯৮৪ জন এবং নারী ভোটার ২৪৮,২৩৫ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৩ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ছয় জন। নির্বাচনে মো ওয়োজ কুরনী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। রুবেল হোসেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে রকেট প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো শহিদুল আলম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মো আলিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে কাজী আলাউদ্দীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে এ এম রিয়াছাত আলী বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এস এম মোখলেসুর রহমান বিজয় লাভ করেন।২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে এ এম রিয়াছাত আলী বিশ্বাস বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আ. ফ. ম. রুহুল হক সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সাতক্ষীরা -৪(সংসদীয় আসন ১০৮): সাতক্ষীরা-৪ আসনটি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা, কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন, কুশুলিয়া ইউনিয়ন, মথুরেশপুর ইউনিয়ন, ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন, রতনপুর ইউনিয়ন, মৌতলা ইউনিয়ন (চাম্পাফুল ইউনিয়ন, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন, তারালী ইউনিয়ন, নলতা ইউনিয়ন ব্যতীত) নিয়ে গঠিত। ২০২৫ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসনটি সাতক্ষীরা জেলার শুধু শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে ।

প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী চার জন। এস, এম, মোস্তফা আল মামুন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী জি, এম, নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুর রশীদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে মো মনিরুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নিচ্ছেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনসুর আহমদ গাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শাহাদত হোসেন বিজয় লাভ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কাজী আলাউদ্দিন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে একই দলের এইচএম গোলাম রেজা নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ