ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : রাজবাড়ী জেলা
রাজবাড়ী জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে রাজবাড়ীর ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলতো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক রাজবাড়ী জেলার ২টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
রাজবাড়ী -১(সংসদীয় আসন ২০৯) :রাজবাড়ী-১ আসনটি রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩০,২১৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১৬,১৫০, নারী ভোটার ২১৪,০৫৮ এবং হিজড়া ভোটার ৮।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাকের পার্টি থেকে মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস গোলাপ ফুল প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ধানের শীষ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: নূরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে খোন্দকার হাবিবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেন। এরপর জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে কাজী কেরামত আলী একই দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বিজয়ী হন, এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার কাজী কেরামত আলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন।
রাজবাড়ী -২(সংসদীয় আসন ২১০) : রাজবাড়ী-২ আসনটি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা, কালুখালী উপজেলা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৯,৬৯৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮৫,৫৪৪, নারী ভোটার ২৭৪,১৪৬ এবং হিজড়া ভোটার ৬।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা ফুটবল প্রতীকে এবং জাহিদ সেখ গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে অংশ নেবেন। খেলাফত মজলিস থেকে কাজী মিনহাজুল আলম দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে মো: আব্দুল মালেক মন্ডল ছড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে জামিল হিজাজী শাপলা কলি প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো: হারুন-অর-রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে, জাতীয় পার্টি থেকে মো: শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহা: আব্দুল মালেক হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ কে এম আসজাদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে জয়লাভ করেন। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে খোন্দকার ছদরুল আমিন হাবিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। এরপর জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিল্লুল হাকিম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে নাসিরুল হক সাবু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে