Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নোয়াখালী জেলা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব সময়ই এই জেলায় ভালো করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল বিএনপি। দেশে যেকটি স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে (২০১৪.২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছাড়া) তার সবগুলোতে দাপটের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগও সবগুলো আসনেই সব সময় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কয়েকটি নির্বাচনে জেলার কিছু আসনে জয়ীও হযেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে এই জেলার ভোটের অবস্থা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক নোয়াখালীর ৬টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের হালচাল।

নোয়াখালী-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৬৮):
জেলার চাটখিল উপজেলা এবং সোনাইমুড়ি উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-১ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৪,৫২,৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৩৩,৭১১ ও নারী ভোটার ২,১৮,৭১৪ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. ছাইফ উল্যাহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এ এম মাহবুব উদ্দিন (খোকন), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে মো. মশিউর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে রেহানা বেগম, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. নুরুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে জহিরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে ডাব প্রতীকে মো. মোমিনুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়নুল আবদিন ফারুক, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়নুল আবদিন ফারুক, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়নুল আবদিন ফারুক ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মাহবুব উদ্দিন খোকন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নোয়াখালী-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৬৯):
জেলার সেনবাগ উপজেলা এবং সোনাইমুড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন (বারগাঁও ইউনিয়ন, নাটেশ্বর ইউনিয়ন, অম্বরনগর ইউনিয়ন) নিয়ে নোয়াখালী-২ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৩৬০০৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮৬৩০৫, নারী ১৭৩৭৭৫ ও হিজড়া ভোটার ১ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতীকে কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়নুল আবদিন ফারুক, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে খলিলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বরকত উল্লাহ বুলু, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বরকত উল্লাহ বুলু, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম এ হাশেম ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়নুল আবেদিন ফারুক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নোয়াখালী-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৭০):
জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৩ আসনটি গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৫,১১,৭৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৬৯,৮৮৬, নারী ২,৪১,৮৬৫ ও হিজড়া ভোটার ৮ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে
মো. বরকত উল্লাহ বুলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে মো. সিরাজ মিয়া, স্বতন্ত্র মোরগ প্রতীকে মো. রাজিব উদদৌলা চৌধুরী, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে শরীফ আহমেদ, খেলাফত মজলিস থেকে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. বোরহান উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুর উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৩ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সালাহ উদ্দিন কামরান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মাহবুবুর রহমান, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মাহবুবুর রহমান ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বরকত উল্লাহ বুলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নোয়াখালী-৪ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৭১):
জেলার সুবর্ণচর উপজেলা ও নোয়াখালী সদর উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৭,০০,৩৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩,৬৬,৬৫৯, নারী ৩,৩৩,৬৭৭ ও হিজড়া ভোটার ৩ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. ইসহাক খন্দকার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে মো ইউনুস নবী, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. শাহজাহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. ফিরোজ আলম মাসুদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে বিটুল চন্দ্র তালুকদার ও গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে আবদুজ জাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মো. শাহজাহান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মো. শাহজাহান, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মো. শাহজাহান ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নোয়াখালী-৫ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৭২): নোয়াখালী-৫ আসনটি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৫,০৩,৮৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৬১,৭৭৯ ও নারী ভোটার ২,৪২,০৭২ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে মুন তাহার বেগম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে আবু নাছের, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীকে মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মুহাম্মদ ইউনুছ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে হাতি প্রতীকে মোহাম্মদ আনিছুল হক, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে খাজা তানভীর আহমেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে তৌহিদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে ওমর আলী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও মো. শওকত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মওদুদ আহমেদ, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ওবায়দুল কাদের, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মওদুদ আহমেদ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ওবায়দুল কাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নোয়াখালী-৬ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২৭৩): জেলার হাতিয়া উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনটি গঠিত। মোট ভোটার ৩৩৯১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৭৮৩০৯, নারী ১৬০৮৭৪ ও হিজড়া ভোটার ২ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি) থেকে একতারা প্রতীকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক, স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে তানবীর উদ্দিন রাজিব, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে এ টি এম নাবী উল্যাহ, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি থেকে ছাতা প্রতীকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ওয়ালী উল্লাহ, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ