Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নরসিংদী জেলা

রসিংদী জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যে কটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে নরসিংদীরভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক নরসিংদী জেলার ৫টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।

নরসিংদী-১(সংসদীয় আসন ১৯৯) : নরসিংদী-১ আসনটি নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন (১. আমদিয়া, ২. পাঁচদোনা ও ৩. মেহেরপাড়া ইউনিয়ন) ব্যতীত নিয়ে গঠিত। এই আসনে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৫২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১২ জন।

প্রার্থী: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে খায়রুল কবির খোকন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে হামিদুল হক পারভেজ আপেল প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো ইব্রাহিম ভূঞা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে সাখাওয়াত হোসেন মোমবাতি প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি থেকে মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো আশরাফ হোসেন ভূঞা হাতপাখা প্রতীকে, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে শিরিন আক্তার ট্রাক প্রতীকে এবং গণফোরাম থেকে শহিদুজ্জামান চৌধুরী উদীয়মান সূর্য প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনে অতীতের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি একই দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০০১ সালেও সামসুদ্দীন আহমেদ এছাক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের উপ-নির্বাচনে খায়রুল কবির খোকন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয় অর্জন করেন।

নরসিংদী-২(সংসদীয় আসন ২০০):
নরসিংদী-২ আসনটি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা এবং নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন, পাঁচদোনা ইউনিয়ন ও মেহেড়পাড়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৩৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ছয়জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: আমজাদ হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহীম আপেল প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি থেকে এএনএম রফিকুল আলম সেলিম লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে মো: গোলাম সারোয়ার শাপলা কলি প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ড. আব্দুল মঈন খান ধানের শীষ প্রতীকে এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে আসিফ ইকবাল চেয়ার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি একই দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০০১ সালেও আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আনোয়ারুল আশরাফ খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয় অর্জন করেন।

নরসিংদী -৩(সংসদীয় আসন ২০১): নরসিংদী-৩ আসনটি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ জন।

প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। জাকের পার্টি থেকে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান গোলাপ ফুল প্রতীকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে রায়হান মিয়া আপেল প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি থেকে এ, কে, এম রেজাউল করিম লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনজুর এলাহী ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মো: রাকিবুল ইসলাম (রকিব) রিক্সা প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া হাতপাখা প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আরিফ-উল-ইসলাম মৃধা হাঁস প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি একই দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০০১ সালেও আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয় অর্জন করেন।

নরসিংদী -৪ (সংসদীয় আসন ২০২) : নরসিংদী-৪ আসনটি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা ও বেলাবো উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৬৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ২৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় পার্টি থেকে মো: কামাল উদ্দিন লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে কাজী শরিফুল ইসলাম ডাব প্রতীকে এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: ছাইফুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মুহাম্মদ মিলন মিয়া আপেল প্রতীকে এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাজী সাজ্জাদ জহির কাস্তে প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন রিক্সা প্রতীকে, জনতার দল থেকে আবু দার্দ্দা মোঃ মা’জ কলম প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে নুরউদ্দীন খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন। ২০০১ সালে আবারও সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নরসিংদী -৫ (সংসদীয় আসন ২০৩): নরসিংদী-৫ আসনটি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৫ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে মোট দশজন প্রার্থী ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌফিকুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে এবং মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে তাজুল ইসলাম রিক্সা প্রতীকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে তাহমিনা আক্তার আপেল প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো: আশরাফ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বদরুজ্জামান উজ্জল হাতপাখা প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহম্মেদ চৌধুরী ফুটবল প্রতীকে এবং মো: সোলায়মান খন্দকার হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মশিউর রহমান মোমবাতি প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ পনির হোসেন মাইক প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আবদুল আলী মৃধা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন। ২০০১ সালেও রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ