ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নারায়ণগঞ্জ জেলা
নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এবার নতুন করে ভোটের হিসাব করছে জেলাবাসী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকলেও লড়াইতে চমক দেখাতে পারে জাতীয় পার্টিও। এক নজরে দেখে আসি নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
নারায়ণগঞ্জ -১(সংসদীয় আসন২০৪): নারায়ণগঞ্জ-১ আসনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৮৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল জাহাজ প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ওয়াসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে অংশ নেবেন। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মো: মনিরুজ্জামান চন্দন কাস্তে প্রতীকে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: ইমদাদুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মো: রেহান আফজাল আপেল প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে আব্দুল মতিন চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন। ২০০১ সালে আবার আব্দুল মতিন চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর গাজী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নারায়ণগঞ্জ -২(সংসদীয় আসন ২০৫): নারায়ণগঞ্জ-২ আসনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৬৪,০৯৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১,৮৭,৮০১, নারী ভোটার ১,৭৬,২৯২, এবং হিজড়া ভোটার ৫।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো: নজরুল ইসলাম আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আতাউর রহমান খান কলস প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে কামরুল মিয়া ট্রাক প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মো: হাফিজুল ইসলাম কাস্তে প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: ইলিয়াছ মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে মো: আবু হানিফ হৃদয় হাতি প্রতীকে এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা মো: হাবিবুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বিজয়ী হন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমদাদুল হক ভূঁইয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন।
নারায়ণগঞ্জ -৩(সংসদীয় আসন ২০৬) : নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড নম্বর ০১ থেকে ১০ পর্যন্ত (সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা) এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯৩,৩৪৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩০২,২৯০, নারী ভোটার ২৯১,০৫৫ এবং হিজড়া ভোটার ৩।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে মোট এগারোজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আজহারুল ইসলাম মান্নান ধানের শীষ প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মুহা: শাহজাহান রিক্সা প্রতীকে অংশ নেবেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে আরিফুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম ঘোড়া প্রতীকে এবং গণসংহতি আন্দোলন থেকে অঞ্জন দাস মাথাল প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে গোলাম মসীহ্ হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মো: আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী বটগাছ প্রতীকে, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ট্রাক প্রতীকে এবং জনতার দল থেকে আবুদল করীম মুন্সী কলম প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে রেজাউল করিম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল কায়সার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন।
নারায়ণগঞ্জ -৪ (সংসদীয় আসন ২০৭) : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪০,৭৮৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭৩,৭১৫, নারী ভোটার ২৬৭,০৬২ এবং হিজড়া ভোটার ৬।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট তেরোজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে ইকবাল হোসেন কাস্তে প্রতীকে, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে সেলিম মাহমুদ মই প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো: আরিফ ভূঁইয়া ট্রাক প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে আব্দুল্লাহ আল আমিন শাপলা কলি প্রতীকে, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে মোহাম্মদ আলী হাতি প্রতীকে এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: ইসমাইল হোসেন কাউছার হাতপাখা প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আনোয়ার হোসেন রিক্সা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ থেকে মো: সুলাইমান দেওয়ান মোটরগাড়ি (কার) প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে এবং মো: শাহ আলম হরিণ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে মনির হোসাইন খেজুর গাছ প্রতীকে, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বিএসপি) থেকে মো: সেলিম আহমেদ একতারা প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ ছালাউদ্দিন খোকা লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বিজয়ী হন, এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে কবরী সারোয়ার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন।
নারায়ণগঞ্জ -৫ (সংসদীয় আসন ২০৮): নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৫,২৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪৩,৭৬৮, নারী ভোটার ২৪১,৫১২ এবং হিজড়া ভোটার ৮।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট দশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খেলাফত মজলিস থেকে এ বি এম সিরাজুল মামুন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে আবু নাঈম খান বিপ্লব মই প্রতীকে এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা ছড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাও মোঃ মাছুম বিল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মাকসুদ হোসেন ফুটবল প্রতীকে এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো নাহিদ হোসেন ট্রাক প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মন্টু চন্দ্র ঘোষ কাস্তে প্রতীকে, গণসংহতি আন্দোলন থেকে তারিকুল ইসলাম মাথাল প্রতীকে, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী চেয়ার প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে আবুল কালাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালে এস এম আকরাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার আবুল কালাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বিজয়ী হন, এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে