ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: জামালপুর জেলা
জামালপুর জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে জামালপুর ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলতো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক জামালপুর জেলার ৫টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
জামালপুর -১(সংসদীয় আসন ১৩৮): জামালপুর-১ আসনটি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও বকশিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২০৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ২ জন।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী চার জন। এর মধ্যে এ. কে. এম. ফজলুল হক জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আব্দুর রউফ তালুকদার হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হন।
জামালপুর -২(সংসদীয় আসন ১৩৯): জামালপুর-২ আসনটি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৯ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৩ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ১ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী তিন জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ ছামিউল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেদ মোশাররফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফরিদুল হক খান বিজয়ী হন।
জামালপুর ৩(সংসদীয় আসন ১৪০): জামালপুর-৩ আসনটি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা ও মেলান্দহ উপজেলা এবং মাদারগঞ্জ,মেলান্দ এবং হাজরাবাড়ি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নিয়ে গঠিত। মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৪১ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ৬ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী নয় জন। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম মাথাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু সূর্যমুখী ফুল এবং ফারজানা ফরিদ ফুটবল প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো: মুজিবুর রহমান আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: সাদিকুর রহমান কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে মীর সামসুল আলম লাঙ্গল প্রতীক এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে লিটন মিয়া ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আজম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মির্জা আজম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় বিজয়ী হন।
জামালপুর ৪(সংসদীয় আসন ১৪১): জামালপুর-৪ আসনটি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলা এবং জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়ন ও মেষ্টা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৫২৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬৪ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ১ জন।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ছয় জন।বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মো: মাহবুব জামান জুয়েল কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো: ইকবাল হোসেন ট্রাক প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। নাগরিক ঐক্যের মো: কবির হাসান কেটলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আলী আকবর হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে মো: ফরিদুল কবীর তালুকদার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আব্দুস সালাম তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোঃ নুরুল ইসলাম বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আনোয়ারুল কবির তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুরাদ হাসান বিজয়ী হন।
জামালপুর ৫(সংসদীয় আসন ১৪২): জামালপুর-৫ আসনটি জামালপুর জেলার সদর উপজেলার কেন্দুয়া, শরীফপুর, লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচর, ইটাইল, নরুন্দি, ঘোড়াধাপ, বাঁশচড়া, রানাগাছা, শ্রীপুর, শাহবাজপুর, দিগপাইত, রশিদপুর, তিতপল্লা, মেষ্টা সহ সর্বমোট ১৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৩ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ১০ জন।
প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে মোট প্রার্থী আট জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) থেকে শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রার্থী আবু সায়েম মোহাম্মদ সা-আদাত-উল করীম ডাব প্রতীক দিয়ে ভোটে লড়ছেন। জাতীয় পার্টি - জেপি থেকে মো: বাবর আলী খান বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী জাকির হোসেন ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি প্রার্থী মো: আমির উদ্দিন তারা প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে শেখ মো: আক্কাছ আলী কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী সিরাজুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম হীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় বিজয়ী হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে