ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জেলা: হবিগঞ্জ জেলা
হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা প্রবল। এই জেলার বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ছোট জাতীয় দলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে নির্বাচনী দৃশ্যপট বেশ ভিন্ন রূপ নিয়েছে, কারণ প্রতিটি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক হবিগঞ্জ জেলার চার আসনগুলোর নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
হবিগঞ্জ-১ (সংসদীয় আসন ২৩৯) : হবিগঞ্জ-১ আসনটি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৬৬,৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৩৬,৫৭৬ জন, নারী ভোটার ২,৩০,৩৪০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোহাম্মদ বদরুর রেজা ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাজী তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ থেকে মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। শেখ সুজাত মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী দখল করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
হবিগঞ্জ-২ (সংসদীয় আসন ২৪০): হবিগঞ্জ-২ আসনটি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলা ও বানিয়াচং উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯৪,৭৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,০০,১৬২ জন, নারী ভোটার ১,৯৪,৫৯০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আব্দুল বাছিত আজাদ খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আব্দুল মুকতাদির চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। লুকমান আহমদ তালুকদার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে মই প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আফছার আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শরিফ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত আসনটি দখল করেন। ২০০১ সালে নাজমুল হাসান জাহেদ এবং ২০০৮ সালে আব্দুল মজিদ খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
হবিগঞ্জ-৩(সংসদীয় আসন ২৪১): হবিগঞ্জ-৩ আসনটি হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৯,৫৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,১৩,২৯৮ জন, নারী ভোটার ২,০৬,২৬২ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ শাহিনুর রহমান বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাজী মহসিন আহমদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এস, এম, সরওয়ার বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। আব্দুল মুমিন চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টির আবু লেইছ মো. মুবিন চৌধুরী দখল করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাহ এ এম এস কিবরিয়া আসনটি জয়ী হন। ২০০৫ সালের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আবু লেইছ মো. মুবিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবু জাহির আসনটি জয়ী হন।
হবিগঞ্জ-৪ (সংসদীয় আসন ২৪২) : হবিগঞ্জ-৪ আসনটি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৫,৫২,৭১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২,৭৮,৬৬০ জন, নারী ভোটার ২,৭৪,০৪৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ রাশেদুল ইসলাম খোকন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) থেকে ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ গিয়াস উদ্দিন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। মোঃ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে মই প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এস, এম, ফয়সল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সালেহ আহমদ সাজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। শাহ মোঃ আল আমিন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুঃ রেজাউল মোস্তফা ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন। আহমদ আবদুল কাদের খেলাফত মজলিস থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এনামুল হক মোস্তফা শহীদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল দখল করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবার এনামুল হক মোস্তফা শহীদ বিজয়ী হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে