ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ফেনী জেলা
ফেনী জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে ফেনীর ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক ফেনী জেলার ৩টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
ফেনী-১(সংসদীয় আসন ২৬৫): ফেনী-১ আসনটি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা, ফুলগাজী উপজেলা এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৮৫,৬৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯৮,৭৫৯ জন, নারী ভোটার ১৮৬,৮৯০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোতাহের হোসেন চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এস এম কামালউদ্দীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। মুন্সী রফিকুল আলম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। কাজী গোলাম কিবরিয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে ডাব প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। আনোয়ার উল্যাহ ভূঁঞা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীক নিয়ে এবং মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালেও বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে পরবর্তীতে আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে সাঈদ ইস্কান্দার (বিএনপি) সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালেও বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফেনী-২(সংসদীয় আসন ২৬৬): ফেনী-২ আসনটি ফেনী জেলার ফেনী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩৭,০৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২২৫,৮৮১ জন, নারী ভোটার ২১১,১৯৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট দশজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোঃ হারুনুর রশিদ ভূঁঞা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ তারেকুল ইসলাম ভূঁঞা গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। সাইফুল করিম মজুমদার আমজনতার দল থেকে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। জয়নাল আবদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জসীম উদ্দীন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁঞা আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। সামসুদ্দিন মজুমদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঁঞা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এবং মোহাম্মদ আবুল হোসেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। এছাড়া তাহেরুল ইসলাম ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে জয়নাল হাজারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালেও পুনরায় জয়নাল হাজারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালে জয়নাল আবদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফেনী-৩(সংসদীয় আসন ২৬৭): ফেনী-৩ আসনটি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলা এবং সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫০৮,১৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬৩,২২৭ জন, নারী ভোটার ২৪৪,৯৬৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট আটজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোঃ হাসান আহমদ ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ আবু সুফিয়ান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। মোঃ সাইফ উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ আবু নাছির ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। আবদুল মালেক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে মই প্রতীক নিয়ে এবং মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে মাহবুবুল আলম তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালেও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে