ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: চাঁদপুর জেলা
চাঁদপুর জেলা ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শক্তিমত্তা প্রায় সমান। বিগত নির্বাচনগুলোর (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছাড়া) ফলাফল থেকে তেমনটাই দেখা গেছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার নতুন করে ভোটের হিসাব করছে জেলাবাসী। এক নজরে দেখে নেয়া যাক চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
চাঁদপুর-১(সংসদীয় আসন ২৬০): চাঁদপুর-১ আসনটি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫৬,৪৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮৪,৮০২ জন, নারী ভোটার ১৭১,৬৮০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: হাবিব খান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। মোঃ এনায়েত হোসেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। মোহাম্মদ আজাদ হোসেন গণফোরাম থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। আ ন ম এহছানুলl হক মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে মেজবাহ উদ্দিন খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় আ ন ম এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে মহিউদ্দীন খান আলমগীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চাঁদপুর-২(সংসদীয় আসন ২৬১): চাঁদপুর-২ আসনটি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫০১,০৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৫৬,৫০০ জন, নারী ভোটার ২৪৪,৫৫৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট আটজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মো. জালাল উদ্দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মো. বিল্লাল হোসেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি থেকে ছাতা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন। মানসুর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। মো. এমরান হোসেন মিয়া জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মো. ফয়জুন্নুর বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) থেকে হাতি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ গোলাফ হোসেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। নাসিমা নাজনীন সরকার বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে আনারস প্রতীক নিয়ে এবং মো. এনামুল হক নাগরিক ঐক্য থেকে কেটলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে মো. নুরুল হুদা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় মো. নুরুল হুদা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চাঁদপুর-৩(সংসদীয় আসন ২৬২): চাঁদপুর-৩ আসনটি চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর উপজেলা এবং হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪৬,৩৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮২,৭০৪ জন, নারী ভোটার ২৬৩,৬২৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোঃ জাকির হোসেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ জয়নাল আবদিন শেখ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। এ, এইচ, এম, আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন। শেখ ফরিদ আহম্মেদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ শাহজাহান মিয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। সেলিম আকবর গণফোরাম থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে আলম খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে জি এম ফজলুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় জি এম ফজলুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চাঁদপুর-৪(সংসদীয় আসন ২৬৩): চাঁদপুর-৪ আসনটি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪০০,৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০৮,৬০৩ জন, নারী ভোটার ১৯২,০২৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট আটজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ মুনীর চৌধুরী গণফোরাম থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। মকবুল হোসাইন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। মোঃ আব্দুল মালেক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাকির হোসাইন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ আব্দুল হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। মোঃ হারুনুর রশিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং মাহমুদ আলম জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে পুনরায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে এস. এ. সুলতান টিটু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে হারুনুর রশিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
চাঁদপুর-৫(সংসদীয় আসন ২৬৪): চাঁদপুর-৫ আসনটি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলা এবং শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫২৬,৬৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬৯,২৪৩ জন, নারী ভোটার ২৫৭,৪৩৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
প্রার্থী: এ আসনের জন্য মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: মোঃ জাকির হোসেন প্রধানিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীক নিয়ে ভোটে রয়েছেন। মোঃ মমিনুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন। মোঃ মাহমুদ হাসান নয়ন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। মোঃ নেয়ামুল বশির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি থেকে ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। মির্জা গিয়াস উদ্দিন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে এম এ মতিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় এম এ মতিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে