ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: শেরপুর জেলা
শেরপুর জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যে কটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে শেরপুরে ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলতো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক শেরপুর জেলার ৩টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
শেরপুর -১(সংসদীয় আসন ১৪৩): শেরপুর-১ আসনটি শেরপুর জেলার শেরপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯ জন। এছাড়া, হিজড়া ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন ৮ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছেন মো. লিখন মিয়া। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইলিয়াছ উদ্দিন কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচন করছেন সানসিলা জেবরিন। আর জাতীয় পার্টির আরেক প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক মনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিউর রহমান আতিক বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিউর রহমান আতিক বিজয়ী হন।
শেরপুর-২ (সংসদীয় আসন ১৪৪): শেরপুর-২ আসনটি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৯ জন। হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম কিবরিয়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। আর আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে মো. আব্দুল্লাহ ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মতিয়া চৌধুরী বিজয়ী হন। পরবর্তী জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী জাহেদ আলী চৌধুরী আসনটি দখল করেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মতিয়া চৌধুরী নির্বাচিত হয়ে সংসদে ফিরে আসেন।
শেরপুর -৩ (সংসদীয় আসন ১৪৫) : শেরপুর-৩ আসনটি শেরপুর জেলার শ্রীবর্দি উপজেলা ও ঝিনাইগাতি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪১৩,৩৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০৫,০৭৭ জন, নারী ভোটার ২,০৮,২৯৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন পাঁচজন প্রার্থী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক পেয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মো. মিজানুর রহমান। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী সেরাজুল হক বিজয়ী হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এম এ বারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মাহমুদুল হক রুবেল বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এ কে এম ফজলুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে