Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রংপুর জেলা

রংপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই জেলার আসন সংখ্যা ৬ টি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই এই জেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা।

রংপুর ১ (সংসদীয় আসন নম্বর-১৯): এই আসন রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৩২,৩২২ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬৭,১৮৩ জন, নারী ভোটার ১,৬৫, ০৩৭ জন এবং হিজড়া ভোটার দুইজন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ছয় জন লড়বেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন মো মোকাররম হোসেন সুজন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো রায়হান সিরাজী, জাতীয় পার্টি থেকে মো মঞ্জুম আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে এ টি এম গোলাম মোস্তফা, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে মো আনাস এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে আহসানুল আরেফিন নির্বাচন করবেন।

এই আসনে ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ময়েজুদ্দিন সরকার জয়ী হন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে একই দল থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসনটি শূন্য থাকে। তবে একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হোসাইন মকবুল শাহরিয়ার জয়ী হন। পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের টানা দুইটি সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গা পুনরায় বিজয় অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু নির্বাচিত হন।

রংপুর ২ (সংসদীয় আসন নম্বর ২০): রংপুর-২ আসনটি রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ৩,৫৭,০৪৬ জন। পুরুষ ভোটার ১,৭৯,৭৮৬ জন, নারী ভোটার ১,৭৭,২৫২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮ জন।

প্রার্থী: এই আসনে মোট পাঁচ জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোহাম্মদ আলী সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে এ টি এম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে আনিছুল ইসলাম মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো আশরাফ আলী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জে.এস. ডি) থেকে মো আজিজুর রহমান নির্বাচন করবেন

এই আসনে ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হক চৌধুরী বিজয়ী হন। পরের নির্বাচনে, ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন হায়দার নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসনটি লাভ করে। তবে একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে আবারও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার জয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে আনিসুল ইসলাম মন্ডল নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আবারও পরিবর্তন আসে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের টানা তিনটি সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ধারাবাহিকভাবে বিজয় অর্জন করেন।

রংপুর ৩ (সংসদীয় আসন ২১): এই আসন রংপুর জেলার সাবেক সদর উপজেলা (সিটি কর্পোরেশন এলাকা ) নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪৯৪৭৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২৪৭৩৯৫ জন এবং নারী ভোটার ২৪৭৩৭৭ জন। এছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ২ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো সামসুজ্জামান সামু এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো মাহবুবুর রহমান (বেলাল) নির্বাচন করবেন। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মোছাঃ আনোয়ারা ইসলাম রানী এবং রিটা রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আমিরুজ্জামান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে মো আব্দুল কুদ্দুছ, জাতীয় পার্টি থেকে গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল( মার্কসবাদী) থেকে মো আনোয়ার হোসেন বাবলু নির্বাচন করবেন।


এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শফিকুল গনি স্বপন বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি আসনটি জয় করলেও জুনের নির্বাচনে আবারও এরশাদ বিজয়ী হন। ২০০১ সালে জি এম কাদের, ২০০৮ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে আবার এরশাদ বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে জি এম কাদের নির্বাচিত হন।

রংপুর ৪ ( সংসদীয় আসন ২২): রংপুর-৪ আসনটি রংপুর জেলার সাবেক পীরগাছা উপজেলা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৭৮৩৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২৩৫০৬৬ জন এবং নারী ভোটার ২৪৩৩১৬ জন। এছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪ জন।

প্রার্থী: এই আসনে মোট প্রার্থী আট জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো এমদাদুল হক ভরসা, এনসিপি থেকে আখতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে উজ্জল চন্দ্র রায়, স্বতন্ত্র থেকে মো শাহ আলম বাসার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আবু সাহমা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে প্রগতি বমর্ন তমা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো জাহিদ হোসেন এবং জাতীয় পার্টি থেকে আবু নাসের শাহ মো মাহবুবার রহমান নির্বাচন করবেন।

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহ আব্দুর রাজ্জাক বিজয়ী হন। পরের নির্বাচনে, ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহ আলম টানা দুইবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসনটি শূন্য থাকলেও একই বছরের জুনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে করিম উদ্দিন ভরসা বিজয়ী হন। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবেও জয় পান। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু মুনশি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের টানা তিনটি সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধারাবাহিকভাবে বিজয় অর্জন করেন।

রংপুর ৫ (সংসদীয় আসন ২৩): রংপুর-৫ আসন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৪০৩৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২১৮৩৪৭ জন এবং নারী ভোটার ২২১৯৮৪ জন। এছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী দশ জন। এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপি থেকে মো গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টি থেকে এস এম ফখর উজ জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো গোলাম রব্বানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো গোলজার হোসেন, নাগরিক ঐক্য থেকে মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, স্বতন্ত্র থেকে খন্দকার মুকিত আল মাহমুদ, বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মো মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মো আবু হেলাল, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে মো আব্দুল বাছেত এবং বাংলাদেশেরের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে মো বাবুল আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ এন আশিকুর রহমান বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ হারিজ উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জয়ী হন, তবে সেই বছরের উপ-নির্বাচনে একই দলের মিজানুর রহমান চৌধুরী আসনটি ধরে রাখেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসন শূন্য থাকলেও জুনের নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পুনরায় বিজয়ী হন। সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শাহ সোলায়মান আলম ফকির জয়ী হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের টানা তিনটি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার নির্বাচিত হন।

রংপুর ৬ (সংসদীয় আসন ২৪): রংপুর-৬ আসন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২৯৭৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৬৪২৫৫ জন এবং নারী ভোটার ১৬৫৫০০ জন। এছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪ জন।

প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে মোট আট জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপি থেকে মো সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে মো নূর আলম মিয়া, স্বতন্ত্র থেকে খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সুলতান মাহমুদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি থেকে(এবি পার্টি) থেকে মো ছাদেকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র থেকে তাকিয়া জাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো নুরুল আমিন এবং স্বতন্ত্র থেকে আবু জাফর মো জাহিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল জলিল প্রধান বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসনটি লাভ করতে পারলেও জুনের নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পুনরায় বিজয়ী হন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে নুর মোহাম্মদ মণ্ডল নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নুর মোহাম্মদ মণ্ডল জয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে জানুয়ারি ২০১৪ সালের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ