ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রাজশাহী জেলা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পুরোদমে প্রচারণা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অধ্যুষিত রাজশাহী জেলায়। বিগত নির্বাচনগুলোতে (সর্বশেষ তিনটি নির্বাচন ছাড়া) জেলার ৬টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দাপট দেখালেও অনেকগুলো আসনে কিছু নির্বাচনে আওয়ামী লীগও জয়লাভ করেছে। এবার যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকছে না তাই পাল্টে গেছে ভোটের হিসাব নিকাশ। চলুন দেখে নেয়া যাক রাজশাহীর ৬টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
রাজশাহী-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫২): রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনটি।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র মোবাইল ফোন প্রতীকে মো আল-সাআদ, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে মির মো শাহজাহান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো শরীফ উদ্দীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো মুজিবুর রহমান ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীকে মো আব্দুর রহমান নির্বাচন করছেন। রাজশাহী-১ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান, ১৯৯১ সালে বিএনপির আমিনুল হক, ১৯৯৬ সালে বিএনপির আমিনুল হক, ২০০১ সালেও বিএনপির আমিনুল হক ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজশাহী-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫৩): রাজশাহী শহরের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসনটি।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে নাগরিক ঐক্য থেকে কেটলি প্রতীকে মোহাম্মদ সামছুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. মিজানুর রহমান মিনু, বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে আনারস প্রতীকে মো. মেজবাউল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে সালেহ আহমেদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঈগল প্রতীকে মু সাঈদ নোমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজশাহী-২ আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে কবির হোসেন, ১৯৯৬ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে কবির হোসেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মিজানুর রহমান মিনু ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজশাহী-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫৪): রাজশাহী-৩ আসনটি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোঃ ফজলুর রহমান, আমজনতার দল থেকে প্রজাপতি প্রতীকে মোঃ সাইদ পরভেজ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো আবুল কালাম আজাদ নির্বাচন করছেন।
রাজশাহী-৩ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ থেকে সরদার আমজাদ হোসেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সরদার আমজাদ হোসেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আবু হেনা, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আবু হেনা ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মেরাজ উদ্দিন মোল্লাহ এমপি নির্বাচিত হন।
রাজশাহী-৪ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫৫): জেলার বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ আসনটি।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ আসনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ডি, এম, ডি জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো আব্দুল বারী সরদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোঃ তাজুল ইসলাম খান নির্বাচন করছেন।
রাজশাহী-৪ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে আয়েন উদ্দিন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নাদিম মোস্তফা, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নাদিম মোস্তফা ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে এনামুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজশাহী-৫ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫৬): রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলা ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৫ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি) থেকে একতারা প্রতীকে মো আলতাফ হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. রুহুল আমিন, স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে মো রায়হান কাওসার, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে মো ইসফা খায়রুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনজুর রহমান ও স্বতন্ত্র ফুটবল প্রথীকে রেজাউল করিম এবার নির্বাচন করছেন।
রাজশাহী-৫ আসনে ১৯৯১ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আজিজুর রহমান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মো. আলাউদ্দিন, ১৯৯৯ সালে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মো আলাউদ্দিন, ২০০০ সালে উপ-নির্বাচন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে রায়হানুল হক, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে কবির হোসেন ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুল ওয়াদুদ নির্বাচিত হন।
রাজশাহী-৬ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-৫৭): রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলা ও বাঘা উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৬ আসনটি গঠিত।
প্রার্থী: অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৬ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি) থেকে একতারা প্রতীকে মো আলতাফ হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো রুহুল আমিন, স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকে মো রায়হান কাওসার, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে মো ইসফা খায়রুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনজুর রহমান ও স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে রেজাউল করিম নির্বাচন করছেন।
রাজশাহী-৬ আসনে নতুন করে সীমানা পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শাহরিয়ার আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগের সীমানায় ওই এলাকায় ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আতোয়ার রহমান তালুকদার ও ১৯৭৯ বিএনপিরমোহাম্মদ মকবুল হোসেন নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে