Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নেত্রকোণা জেলা

ওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নেত্রকোণা জেলায় এবার ভোটের লাড়াই জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এবার নতুন করে ভোটের হিসাব করছে জেলাবাসী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মূলতো বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা থাকলেও লড়াইতে চমক দেখাতে পারে জাতীয় পার্টিও। এক নজরে দেখে আসি নেত্রকোণা জেলার ৫টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।

নেত্রকোণা-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৫৭): 
জেলার কলমাকান্দা উপজেলা ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-১ আসনটি।


প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে মো. আলকাছ উদ্দিন মীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিকশা প্রতীকে গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. আনোয়ার হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. আ. মান্নান (সোহাগ) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে তারা প্রতীকে মো. বেলাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সিরাজুল ইসলাম, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে সিরাজুল ইসলাম, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আব্দুল করিম আব্বাসী, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জালাল উদ্দিন তালুকদার, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আব্দুল করিম আব্বাসী ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মোশতাক আহমেদ রুহী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নেত্রকোণা-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৫৮): 
জেলার নেত্রকোণা সদর উপজেলা ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে নেত্রকোণা-২ আসনটি গঠিত।


প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে বটগাছ প্রতীকে আব্দুর রহীম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. আনোয়ারুল হক, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে এ, বি, এম রফিকুল হক তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-২ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জালাল উদ্দিন তালুকদার, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আবু আব্বাস, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ফজলুর রহমান খান, ২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আবদুল মোমিন, ২০০৪ সালে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে আবু আব্বাস ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আশরাফ আলী খান খসরু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নেত্রকোণা-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৫৯): 
জেলার আটপাড়া উপজেলা ও কেন্দুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-৩ আসনটি।


প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীকে মো. শামছুদ্দোহা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে রফিকুল ইসলাম হিলালী, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঞা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. খায়রুল কবীর নিয়োগী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৩ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ফজলুর রহমান খান, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র আশরাফ উদ্দিন খান, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জুবেদ আলী, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নুরুল আমিন তালুকদার, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নুরুল আমিন তালুকদার ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনজুর কাদের কোরাইশী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নেত্রকোণা-৪ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৬০): 
জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা, খালিয়াজুড়ি উপজেলা ও মদন উপজেলা নিয়ে নেত্রকোণা-৪ আসনটি গঠিত।


প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে জলি তালুকদার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে কোদাল প্রতীকে চম্পা রানী সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. আল-হেলাল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. লুৎফুজ্জামান বাবর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. মুখলেছুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৪ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জুবেদ আলী, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র লুৎফুজ্জামান বাবর, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আবদুল মোমিন, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে লুৎফুজ্জামান বাবর ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে রেবেকা মমিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নেত্রকোণা-৫ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৬১): 
জেলার পূর্বধলা উপজেলা নিয়ে নেত্রকোণা-৫ আসনটি গঠিত।


প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. আবু তাহের তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. নূরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাছুম মোস্তফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫ আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে দেওয়ান শাহজাহান ইয়ার চৌধুরী, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও ২০১৮সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ