Views Bangladesh Logo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মুন্সীগঞ্জ জেলা

নির্বাচনের ফলাফল বিবেচনায় ঢাকা বিভাগের মধ্যে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলায়। তবে এই জেলার সবগুলো আসনেই আওয়ামী লীগেকেও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা গেছে। বিগত নির্বাচনগুলোর (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছাড়া) ফলাফল থেকে তেমনটাই পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার নতুন করে ভাবছে রাজধানীর পাশের এই জেলার ভোটাররা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক মুন্সীগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের সামগ্রিক অবস্থা।

মুন্সীগঞ্জ-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৭১): জেলার শ্রীনগর উপজেলা ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসনটি। এখানকার মোট ভোটার ৫,৪৫,৫১৯। এর মধ্যে পুরুষ ২,৮০,৭১৬, নারী ২,৬৪,৮০২ ও হিজড়া ভোটার ১ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মোহাম্মদ মমিন আলী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. আতিকুর রহমান খাঁন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতীকে ৪ রোকেয়া আক্তার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. আব্দুল্লাহ্ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ১৯৯৬ সালে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ২০০১ সালেও একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ২০০২ সালে উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী, ২০০৪ সালে উপ-নির্বাচনেও বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে মাহি বি চৌধুরী ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মুন্সীগঞ্জ-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৭২): জেলার লৌহজং উপজেলা ও টংগিবাড়ী উপজেলা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৩,৭৮,৪৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৯৪,৭২০ ও নারী ১,৮৩,৭৭২ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে মাজেদুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে চেয়ার প্রতীকে আশিক মাহমুদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে আব্দুস সালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে কে, এম, বিল্লাল ও জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. নোমান মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম হামিদুল্লাহ খান, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মিজানুর রহমান সিনহা, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মিজানুর রহমান সিনহা ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মুন্সীগঞ্জ-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-১৭৩): জেলার গজারিয়া উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনটি গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৫,০৯,৪৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৬৩,০৭৫, নারী ২,৪৬,৩৯০ ও হিজড়া ভোটার ২ জন।

প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে শেখ মো. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে কোদাল প্রতীকে শেখ মো. শিমুল, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে মো. আরিফুজ্জামান (দিদার), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো. কামরুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে সুমন দেওয়ান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে আনারস প্রতীকে আনিছ মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীকে নূর হোসাইন নূরানী ও স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মো. মহিউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম শামসুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম শামসুল ইসলাম, ২০০১ সালেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে এম শামসুল ইসলাম ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে এম ইদ্রিস আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ