ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: কুড়িগ্রাম জেলা
কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা। জেলাটি ভারতের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত। ব্রিটিশ শাসনামলে, এই অঞ্চলটি একটি মহাকুমা হিসেবে সংগঠিত ছিল এবং ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক , হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির অধীনে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি ।
কুড়িগ্রাম ১ (সংসদীয় আসন নম্বর-২৫): কুড়িগ্রাম-১ আসনটি কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা ও নাগেশ্বরী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫২৯১৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২৬৩২৬৭ জন এবং নারী ভোটার ২৬৫৮৯৭ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৩ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ছয় জন। এর মধ্যে জাকের পার্টি থেকে মো আব্দুল হাই,জাতীয় পার্টি থেকে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সাইফুর রহমান রানা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো আনোয়ারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো হারিসুল বারী এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো বিন ইয়ামীন মোল্লা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সাইফুর রহমান রানা নির্বাচিত হন। একই বছরের জুনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আবারও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) আসনটি দখল করে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আছলাম হোসেন সওদাগর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান পুনরায় বিজয়ী হন।
কুড়িগ্রাম- ২(সংসদীয় আসন ২৬): কুড়িগ্রাম-২ আসনটি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলা, ফুলবাড়ী উপজেলা ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬৭২০৬ জন । এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২৮০৭৩৪ জন এবং নারী ভোটার ২৮৬৪৬৯ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৩ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী আট জন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো নূর বখ্ত, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে মো আতিকুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে পনির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে নূর মোহাম্মদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আতিকুর রহমান মোজাহিদ। নাগরিক ঐক্য থেকে মুহাম্মদ আব্দুস সালাম। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে মো নজরুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়েকবাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো উমর ফারুক নির্বাচিত হন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবারও জাতীয় পার্টির তাজুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ২০১৮ সালে পনির উদ্দিন আহমেদ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হামিদুল হক খন্দকার নির্বাচিত হন।
কুড়িগ্রাম ৩ ( সংসদীয় আসন ২৭): কুড়িগ্রাম-৩ আসনটি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৭২৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৭১৫৭৪ জন এবং নারী ভোটার ১৭৫৬৯১ জন। হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট পাঁচ জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ(জিওপি) থেকে সরকার মো নুরে এরশাদ সিদ্দিকি, বিএনপি থেকে তাসভীর উল আলম, জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুস সোবহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা মো আককাছ আলী সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মাহবুবুল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির একেএম মাইদুল ইসলাম বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমজাদ হোসেন তালুকদার জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একেএম মাইদুল ইসলাম নির্বাচিত হন। জুনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পুনরায় জয়ী হন, এবং সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে একই দলের মোজাম্মেল হোসেন লালু নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতিউর রহমান জয়ী হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে একেএম মাইদুল ইসলাম ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন।
কুড়িগ্রাম ৪ (সংসদীয় আসন২৮): কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা, চর রাজিবপুর উপজেলা, চিলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩৮৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৬৮৭১১ জন এবং নারী ভোটার ১৬৯৬৯২ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৯ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী সাত জন। নির্বাচনে বিএনপি থেকে মো আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, স্বতন্ত্র থেকে মো রুকুনুজ্জামান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে রাজু আহমেদ এবং জাতীয় পার্টি থেকে কে এম ফজলুল মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এই আসনে ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজিমুদ্দৌলা বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে একই দলের রোকোনউদ্দৌলা জয়ী হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির গোলাম হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে অবদুল বারী সরকার নির্বাচিত হন, কিন্তু জুনের নির্বাচনে আবারও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে গোলাম হোসেন জয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গোলাম হাবিব দুলাল বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে রুহুল আমিন এবং ২০১৮ সালে পুনরায় জাকির হোসেন নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লব হাসান পলাশ জয়ী হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে