ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: খুলনা জেলা
খুলনা জেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ -বিএনপি প্রায় সমান। দেশে যেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (বিগত ৩টি নির্বাচন ছাড়া) তার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে খুলনার ভোটের অবস্থা। এখানে এবার লড়াই হবে মূলতো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এবার দেখে নেয়া যাক খুলনা জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের চিত্র।
খুলনা-১(সংসদীয় আসন ৯৯): খুলনা-১ আসনটি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা, দাকোপ উপজেলা, নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৯ জন। এ তালিকায় হিজড়া ভোটার শূন্য।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন। নির্বাচনে বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিএসপি) থেকে সুব্রত মন্ডল দোয়াত কলম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গণঅধিকার পরিষদ (জিওয়িপি) থেকে জি,এম, রোকনুজ্জামান ট্রাক প্রতীকে ভোটারদের সামনে এসেছে। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে প্রবীর গোপাল রায় রকেট প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মন্ডল ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে সুনীল শুভ রায় মোমবাতি প্রতীকে ভোটারদের নির্বাচনী বিকল্প হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে মো জাহাঙ্গীর হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে কৃষ্ণ নন্দী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কিশোর কুমার রায় কাস্তে প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার কলস প্রতীকে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে প্রসেনজিৎ দত্ত তারা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আমীর এজাজ খান ধানের শীষ প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো আবু সাঈদ হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেখ হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস সংসদ সদস্য হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মন্ডল আসনটি দখল করেন।
খুলনা-২ (সংসদীয় আসন ১০০): খুলনা-২ আসনটি খুলনা জেলার খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩,২০,২২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৫৯,২৭০ জন এবং নারী ভোটার ১,৬০,৯৪২ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ৮ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী তিন কন। নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শেখ রাজ্জাক আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে একই দলের খালেদা জিয়া আসনটি জয়ী করেন। তবে ওই বছরই অনুষ্ঠিত নভেম্বরের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আলী আসগর লবি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নজরুল ইসলাম মঞ্জু আসনটি দখল করেন।
খুলনা-৩ (সংসদীয় আসন ১০১): খুলনা-৩ আসনটি খুলনা জেলার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ১ থেকে ১৫ এবং দিঘলিয়া উপজেলার আঢ়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৪৫,৬৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,২৪,৪৪৫ জন এবং নারী ভোটার ১,২১,২৩৪ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ৪ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোঃ আঃ আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে রকিবুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে জনার্দন দত্ত মই প্রতীকে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে শেখ আরমান হোসেন সিংহ প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মঈন মোহাম্মদ মায়াজ ফুটবল, মোঃ আবুল হাসনাত সিদ্দিক জাহাজ এবং মোঃ মুরাদ খান লিটন ঘুড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাঙ্গল প্রতীকে এবং এস,এম, আরিফুর রহমান (মিঠু) হরিণ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আশরাফ হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে কাজী সেকান্দর আলী বিজয় লাভ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় এলে আশরাফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
খুলনা-৪ (সংসদীয় আসন ১০২): খুলনা-৪ আসনটি খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা, রূপসা উপজেলা, তেরখাদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩,৫৫,১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭৭,৩০৪ জন এবং নারী ভোটার ১,৭৭,৮৭৮ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ১ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী চার জন। নির্বাচনে খেলাফত মজলিস থেকে এস এম সাখাওয়াত হোসাইন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ইউনুস আহম্মেদ শেখ হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এস কে আজিজুল বারী ধানের শীষ প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন ফুটবল প্রতীকে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১৯৯১ সালে এই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন মোস্তফা রশিদী সুজা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে। ১৯৯৬ সালে আবার মোস্তফা রশিদী সুজা, আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে এম নুরুল ইসলাম, বিএনপির হয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালে মোল্ল্যা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আসনটি দখল করেন।
খুলনা-৫ (সংসদীয় আসন ১০৩): খুলনা-৫ আসনটি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা, ডুমুরিয়া উপজেলা, খান জাহান আলি মেট্রোপলিটন থানা ব্যতীত গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, আটিরাগিলাতলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩,৮৩,২৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯০,৫০০ জন এবং নারী ভোটার ১,৯২,৭৭১ জন। হিজড়া ভোটার নেই।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী চারজন। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোহাম্মদ আলি আসগার ধানের শীষ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে চিত্ত রঞ্জন গোলদার কাস্তে প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সালাহ উদ্দিন ইউসুফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে গাজী আব্দুল হক বিজয় লাভ করেন। জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সালাহ উদ্দিন ইউসুফ সংসদে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের উপ-নির্বাচনে নারায়ন চন্দ্র চন্দ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নারায়ন চন্দ্র চন্দ বিজয়ী হয়ে আসনে প্রতিনিধিত্ব করেন।
খুলনা-৬ (সংসদীয় আসন ১০৪): খুলনা-৬ আসনটি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা, পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪,২৩,৩৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১২,৮৬৯ জন এবং নারী ভোটার ২,১০,৪৬১ জন। হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ১ জন।
প্রার্থী: আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রার্থী পাচ জন। নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, জাতীয় পার্টি - জেপি থেকে মো মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী) ধানের শীষ প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো আছাদুল্লাহ ফকির হাতপাখা প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে প্রশান্ত কুমার মন্ডল কাস্তে প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বিজয়ী হন। পরবর্তী জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ মোঃ নূরুল হক আসনটি জেতে সক্ষম হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোহরাব আলী সানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে